বৃহস্পতিবার, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ ইং, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ বৃহস্পতিবার | ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্তের শীর্ষ ১০-এ বাংলাদেশ, এশিয়ায় চতুর্থ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২০ | ৫:১১ পূর্বাহ্ণ | 35Views

২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্তের শীর্ষ ১০-এ বাংলাদেশ, এশিয়ায় চতুর্থ

বিশ্বে প্রতিদিন নতুন শনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর সংখ্যা বিষয়ক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন  ৯ নম্বরে। তবে শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১০টায় এই তালিকার সপ্তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। পরে রাত ১২টা ২০ মিনিটে ওয়ার্ল্ডো মিটারের আপডেট হওয়া এই তালিকায় ব্রাজিল ও চিলি যুক্ত হওয়ায় ২ ধাপ নিচে নেমে আসে বাংলাদেশ।

 

নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়া, চিলি, পাকিস্তান, মেক্সিকো, সৌদি আরব ও ব্রাজিল। এশিয়ার মধ্যে নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান চার নম্বরে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও সৌদি আরব।

অ্যাকটিভ কেসের অর্থাৎ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বিষয়ক তালিকায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সাত নম্বরে। বাংলাদেশে মোট অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ৬৩ হাজার ১৭৯ জন। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ১১ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৩ জন।

অ্যাক্টিভ কেসের ক্ষেত্রে এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় অ্যাকটিভ কেসের ক্ষেত্রে এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারত (১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩৮) এবং পাকিস্তান (৮৩ হাজার ২২৩)।

অ্যাকটিভ কেস বলতে মোট শনাক্তের মধ্যে সুস্থ হওয়াদের বাদ দিয়ে এখন যারা আক্রান্ত আছেন তাদেরকে অ্যাকটিভ কেস বলে ধরা হয়।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ৯৭তম দিনে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সর্বাধিক করোনা রোগী শনাক্তের সংবাদ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত চারদিন ধরে দেশে প্রতিদিন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন তিন হাজারের বেশি। গত ৯ জুন শনাক্ত ছিল তিন হাজার ১৭১ জন, ১০ জুন ছিল তিন হাজার ১৯০ জন, ১১ জুন ছিল তিন হাজার ১৮৭ জন আর আজ ১২ জুন তিন হাজার ৪৭১ জন রোগী শনাক্ত হবার কথা জানিয়েছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠান। এদিন দেশে সর্বোচ্চ মৃত্যুর খরবও দেয় তারা। গত ১৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যায়, আর গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৪৬ জন।

অ্যাক্টিভ কেস রোগীর ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম এই নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত হলেন ৮১ হাজার ৫২৩ জন আর মোট মারা গেলেন এক হাজার ৯৫ জন। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন মোট ১৭ হাজার ২৪৯জন।  গত আট মার্চ দেশে প্রথম করোন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন তিনজন। শুরুর দিকে করোনা পরীক্ষা কেবলমাত্র রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) হলেও বর্তমানে দেশের সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ৫৯টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। তবে যত রোগী শনাক্ত হচ্ছেন তার বাইরেও অসংখ্য রোগী রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির সংখ্যাও কম নয়।

বাংলাদেশ পরবর্তী এপি সেন্টার কিনা জানতে চাইলে আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা কেবল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই বলতে পারবে, তবে তারা বলেছে এখানে রোগী সংখ্যা বাড়ছে। দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়াতে রোগী সংখ্যা বাড়ছে, তবে দক্ষিণ এশিয়াতে এখনও এক্সপ্লোশন অব এপিডেমিক হয়নি। তবে আশঙ্কা রয়েছে। পাকিস্তানকে ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা পরামর্শ দিয়েছে রোগী সংখ্যা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও সুপারিশ করেছে ছোট এলাকা ধরে লকডাউন করলে কিছু হবে না, বড় এলাকা নিয়ে করতে হবে। ভারতের মুম্বাইসহ মহারাষ্ট্রের অবস্থাও খারাপ।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে তিনি জানান, দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়াতে রোগী সংখ্যা বাড়ছে। দক্ষিণ আমেরিকার মতো এখন দক্ষিণ এশিয়াতে অতোটা খারাপ অবস্থা হয়নি। তবে এভাবে চলতে থাকলে ‘কিন্তু গোয়িং টু বি’।

এক্সপ্লোশন অব এপিডেমিক বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ না নিতে পারি তাহলে রোগী সংখ্যা অনেক বাড়তে পারে। কাজেই হটস্পটের আশঙ্কাতো আছেই। তবে কোনও এলাকাতে ‘এক্সপ্লোশন অব এপিডেমিক’ বা ঘনীভূত মহামারি এখনও দেখা যায়নি, তবে ঢাকাতে জোনিং করা গেলে সেটা হয়তো বিলম্বিত করা যাবে।’

আর এজন্য কঠিন লকডাউনসহ অন্যান্য পদক্ষেপগুলো কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে, নয়তো কোনও উপায় নাই বলেও মন্তব্য করেন মুশতাক হোসেন।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘এই উপমহাদেশ ইতিমধ্যেই এপি সেন্টার হয়ে আছে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানে প্রতিদিন সংক্রমণের হারও যেমন বেশি তেমনি মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। এ তিন দেশেই অন্যান্য দেশের তুলনায় পরীক্ষা কম হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার লক্ষণ উপসর্গ নিয়ে যারা মারা যাচ্ছে তাদের তালিকা এতে যোগ হচ্ছে না। যার কারণে প্রকৃত ঘটনার চেয়ে সংখ্যা অনেক কম। তবে এই তিন দেশেই নতুন রোগীর সংখ্যা  উর্ধ্বমুখী। সেক্ষেত্রে এ উপমহাদেশ পুরোটাই নতুন এপি সেন্টার, তবে বাংলাদেশের অবস্থা একটু বেশি খারাপ। তবে সাধারণ সূত্র অনুযায়ী যে দেশে মহামারী পরে আসবে সেই দেশ থেকে দূর হবেও দেরিতে। এছাড়া আমরা মোকাবিলা করতে পারছি না, যার কারণে যাবে আরও পরে।’

দেশের কিছু মানুষ সচেতন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন, কিছু মানুষ মানেন না, কিছু আছে তারা বোঝেনই না আসলে কী হচ্ছে মন্তব্য করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোভিড মোকাবিলার জন্য আমরা বেশি পদক্ষেপ নিতে পারিনি।  যা করার দরকার ছিল সেটা করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘গত ১১ এপ্রিল রোগী শনাক্তের হার ছিল ছয় দশমিক শূন্য সাত এবং ১৭ এপ্রিল ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। এরই ভেতরে পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হলো ২৬ এপ্রিল। তার ১৪ দিন পর ৯ মে রোগী শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ১০ মে সেখান থেকে লাফ দিয়ে হলো ১৫ দশমিক চার শতাংশ। তারপর আবার ২০ মে হলো ১৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ, ২১ মে ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। তারপর থেকে হার ছিল যথাক্রমে প্রতিদিন ১৭ দশমিক ৪১ শতাংশ, ১৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ১৭ দশমিক ১৯ শতাংশ এভাবে বাড়তে লাগলো। কিন্তু ২৫ মে রোগী শনাক্তের হার চলে গেল ২০ এর ঘরে। ২৬ মে ঈদের ছুটিতে মানুষ ঢাকা ছাড়লো। এরপরে গত ৯ জুন হলো ২১ দশমিক ৬৩, ১০ জুন ১৯ দশমিক ৯৮, ১১ জুন ২০ দশমিক ২১ এবং আজ হচ্ছে ২১ দশমিক ৭১।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রোগী শনাক্তের হার কিন্তু আরও বাড়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটা হয়নি। আমরা এখন পিকের চূড়ায় না উঠে সমান্তরালভাবে চলছি। সংক্রমণের হার এরচেয়ে আর বাড়বে না বলেই আমার মনে হয়।’

তিনি জানান, নমুনা সংগ্রহ যদি আরও রেগুলার হতো এবং নমুনা যদি নষ্ট না হতো তাহলে এই হিসাব আরও ভালো পাওয়া যেতো।

-Advertisement-
সাম্প্রতিক  
জনপ্রিয়  

আমাদের ফেসবুক পেজ

-Advertisement-
-Advertisement-